
সীমান্ত, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বেদখলকৃত দুটি আবাসিক হল—আব্দুর রহমান হল ও নজরুল ইসলাম হল—পরিদর্শন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ৩টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা হল দুটি পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে ছাত্রদলের নেতারা হলগুলোর বর্তমান অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হল দুটি পুনরুদ্ধার ও আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ সময় জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব দুটি হল এখনো বেদখল অবস্থায় রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করুক।”
ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “হল সংকট জবির শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা। আমরা আজ পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি দেখেছি। অবিলম্বে এই হল দুটি উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন জানন, “আজ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আমরা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, দখলকৃত হলগুলো পরিদর্শনে বের হই। প্রথমে আমরা আব্দুর রহমান হল পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, একজন আওয়ামী-সমর্থিত ব্যবসায়ী ভাড়ার বিনিময়ে তার পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন।পরবর্তীতে আমরা সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল পরিদর্শন করি। সেখানে দেখতে পাই, একজন আইনজীবী (এডভোকেট) হলটি দখল করে ব্যক্তিগতভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন”
এছাড়া ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য খান আবু বকর বলেন, ” হল একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত।আমরা দখলকৃত হল পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দিতে চাই।”
উল্লেখ্য, অনাবাসিক তকমা পাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময় মোট ১১টি আবাসিক হল ছিল। তবে আওয়ামি সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও স্থানীয়দের দ্বারা সবকটি হল বেদখল হয়ে যায়। ৫ই আগস্টের পরে যকোন মূল্যে হল পুনরুদ্ধারের আশা দেন ছাত্র প্রতিনিধিরা। এরই অংশ হিসেবে আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ আব্দুর রহমান হল ও নজরুল ইসলাম হল পরিদর্শন করে তা পুনরুদ্ধার করার কর্মসূচি নেন। এ সময় ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য দখল হওয়া হল উদ্ধার করবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দেন।