
আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে সকালে কাজে যোগ দিয়েই বিকেলে লাশ হয়ে ফিরলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শ্রমিক আব্দুল হাকিম (২৪)। শুক্রবার ঢাকার হেমায়েতপুরে একটি মোবিল কারখানায় দুর্ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত হাকিম ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের কেরিয়াতি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকার হেমায়েতপুরের তেঁতুলপাড়া এলাকায় একটি মোবিল ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের তিন দিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন হাকিম। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও ৪০ দিন বয়সী কন্যা সন্তানকে রেখে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরে যান। শুক্রবার সকালে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে হাকিমসহ পাঁচ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৩টার দিকে হাকিম মারা যান।
শনিবার সকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েকে প্রথমবার কোলে নিয়েছিল ওর বাবা। বলেছিল, আমাদের ঢাকায় নিয়ে যাবে। এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, এটা মেনে নিতে পারছি না।”
হাকিমের বাবা আলতাফ হোসেন বলেন, “ফ্যাক্টরির লোকজন ছেলের মরদেহ বাড়িতে এনে দিয়েছে। তারা ক্ষতিপূরণ দিতে চায়, কিন্তু ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। টাকা দিয়ে কি হবে?”
এদিকে, লিলি অয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা জানান, কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।