1. admin@dailyuttarerchitro.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামান বাঘু ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন -মাও: আব্দুল হালিম হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার খালি কীটনাশকের বোতল ফেরত দিলেই নগদ টাকা, পরিবেশ রক্ষায় ইন্ডোফিলের অভিনব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার নাগরভিটা সীমান্তে ২৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

ফাগুনে এক সময় ছিলো লালের আভা: বালিয়াডাঙ্গী থেকে হারেয়ে যাচ্ছে শিমুল

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৪ বার পঠিত

মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, বালিয়াডাঙ্গী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে এখন শিমুল ফুলের রঙে লাল হয়ে ওঠার কথা। গাছে গাছে আগুনঝরা লাল ফুলের সমারোহ দেখে বোঝার কথা শীত বিদায় নিয়ে ফাগুন এসেছে। কিন্তু সময়ের বিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে বসেছে দৃষ্টিনন্দন শিমুল গাছ। ফলে এক সময়ের আগুনঝরা ফাগুন এখন অনেকটাই স্মৃতির পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এবং প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও গ্রামের রাস্তার ধারে, বাড়ির আনাচে-কানাচে ও পতিত জমিতে প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। বসন্তের শুরুতেই গাছে গাছে লাল ফুল ফুটে প্রকৃতির শোভা বাড়িয়ে তুলত। কিন্তু বর্তমানে নির্বিচারে গাছ উজাড় হয়ে যাওয়ায় আগের মতো সেই নয়নাভিরাম দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিমুল গাছ বিলুপ্তির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে নতুন করে চারা রোপণে অনিহা এবং বন ও কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকির অভাব। স্কুলবস্তি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, শিমুল গাছ সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়। চৈত্র মাসে ফল পুষ্ট হয়ে বৈশাখে ফেটে গিয়ে বাতাসে এর বীজ দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এখন নতুন গাছ জন্মানোর মতো পরিবেশ ও সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে।

 

শিমুল গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এর অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত গুরুত্বও রয়েছে। হরিণমারী গ্রামের রব্বানী জানান, শিমুল তুলা লেপ-তোষক ও বালিশ তৈরিতে অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত। আগে কৃষকরা শিমুল তুলা বিক্রি করে বাড়তি আয় করতেন। একটি বড় গাছ থেকে বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার তুলা পাওয়া সম্ভব।

 

এছাড়া শিমুল গাছ পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিত। গাছ কমে যাওয়ায় পাখিরাও তাদের আবাস হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। শিমুলের বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ থাকায় এই গাছ হারিয়ে যাওয়ায় পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

ঢোলাপাড়া গ্রামের মহেশ বলেন, “একসময় শিমুল গাছের ফুলে ফুলে ভোমরা মধু সংগ্রহ করতে ভিড় করত। কিন্তু এখন শিমুল গাছ কমে যাওয়ায় সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না।”

 

বালিয়াডাঙ্গীর সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় রাস্তার ধারে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিমুল গাছ রোপণের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল বইয়ের পাতায় কিংবা ছবিতেই শিমুল ফুল দেখবে।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষিতে আধুনিকতার প্রয়োজন থাকলেও প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক উত্তরের চিত্র
Theme Customized By Shakil IT Park