1. admin@dailyuttarerchitro.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামান বাঘু ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন -মাও: আব্দুল হালিম হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার খালি কীটনাশকের বোতল ফেরত দিলেই নগদ টাকা, পরিবেশ রক্ষায় ইন্ডোফিলের অভিনব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার নাগরভিটা সীমান্তে ২৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

সংরক্ষণ সংকটে সস্তায় বিক্রি, ক্ষতিতে তারাগঞ্জের চাষি

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৪ বার পঠিত

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারদরের ধসের কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেনি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। এতে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

রহিমাপুর রামপুরা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর আলু চাষে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হলে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৪ থেকে ১৬ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই আলু ৮-৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।”

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন। তবে উপজেলার তিনটি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন। ফলে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যায়।

সংরক্ষণের অভাবে অনেক কৃষক বাড়ির উঠান কিংবা অস্থায়ী গুদামে আলু মজুত রাখেন। এতে একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।

চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ কমে ৩ হাজার ৪৬৩ হেক্টরে নেমে এলেও ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বাজারদর কম থাকায় সেই ফলনই এখন কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলমপুর ইউনিয়নের পীরপাড়া গ্রামের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে বাঁচব কীভাবে?”

কুর্শা কাজীপাড়া গ্রামের চাষি এমদাদুল ইসলামও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বারবার লোকসান হলে আলু চাষ থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো গেলে সংরক্ষণ সহজ হবে। পাশাপাশি এলাকায় আলু প্রক্রিয়াজাত শিল্প—যেমন আলুর চিপস বা আলুভিত্তিক খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানা—গড়ে উঠলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আলুচাষিরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং হিমাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে এবং আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক কৃষক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক উত্তরের চিত্র
Theme Customized By Shakil IT Park