
মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতার ও সেহেরিতে দই খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে, হজমে সহায়তা করে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী বগুড়া দই ঘর ঐতিহ্যবাহী দই স্বাদ ও পুষ্টিগুণের জন্য সারাদেশে সুপরিচিত।
কুরআনের দৃষ্টিতে পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য গবাদিপশুতে রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়; আমি তোমাদেরকে তাদের পেটের ভেতর থেকে বিশুদ্ধ দুধ পান করাই…”
— (সূরা নাহল: ৬৬)
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, দুধ ও দুধজাত খাবার—যেমন দই—মানবদেহের জন্য উপকারী ও হালাল পুষ্টির উৎস। তাই রমজানে দই খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী একটি প্রাকৃতিক পন্থা।
হাদিসে সেহেরি ও পুষ্টির নির্দেশনা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“তোমরা সেহেরি খাও, কারণ সেহেরিতে বরকত রয়েছে।”
— (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেহেরিতে দই খেলে তা ধীরে হজম হয়, ফলে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে এবং পানিশূন্যতা কমে। ইফতারে দই খেলে পাকস্থলীতে শীতলতা এনে অতিরিক্ত গ্যাস বা অম্বল কমাতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
জাতীয় পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে দই খাওয়ার প্রধান উপকারিতা হলো—
শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে
প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক
দীর্ঘ সময় শক্তি ও সতেজতা বজায় রাখে
ধর্মীয় অনুশাসন ও স্বাস্থ্য—একই বার্তা
ইসলাম স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিমিত খাবারের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। দুধজাত খাবারকে কুরআনে প্রশংসা করা হয়েছে এবং সেহেরির বরকতের কথা হাদিসে উল্লেখ আছে—এই দুই দিক থেকেই বোঝা যায়, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার রমজানে বিশেষ উপকারী।
উপসংহার
রোজার মাসে শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ইফতার ও সেহেরিতে দই হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ, পুষ্টিগুণ ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে দই—বিশেষত বগুড়ার খাঁটি দই—রমজানের খাবারের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।