
মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: রমজান মাসে ইবাদত নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও কিছু বিষয়ে এখনো বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। তার মধ্যে অন্যতম—স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের পর ফরজ গোসল না করে সেহেরি খাওয়া যাবে কি না।
ইসলামি শরিয়তের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, গোসল ফরজ অবস্থায় থাকলেও সেহেরি খাওয়া বৈধ এবং এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ফজরের নামাজ আদায়ের আগে অবশ্যই গোসল করে পবিত্র হতে হবে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম (সা.) কখনো কখনো স্ত্রীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর সুবহে সাদিক হয়ে গেলে গোসল করে নামাজ আদায় করতেন এবং রোজা অব্যাহত রাখতেন। এতে প্রমাণিত হয়, গোসল দেরিতে হলেও রোজা নষ্ট হয় না।
প্রখ্যাত আলেম Abd al-Aziz ibn Baz (রহ.) বলেন, যদি কেউ সহবাসের পর গোসল না করে সেহেরি খেয়ে ফেলে, তার রোজা সহিহ হবে। একই মত পোষণ করেছেন সমসাময়িক অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফকিহগণ।
–কুসংস্কার থেকে সতর্কতা–
গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত আছে—গোসল ফরজ হওয়ার পর রান্না করা, ঘরের কাজ করা বা চলাফেরা করা যাবে না। আলেমদের মতে, এসবের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই; এগুলো সামাজিক কুসংস্কার।
–ইবাদতের পূর্ণতা–
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; বরং নামাজ, তারাবিহ ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রমজানের পূর্ণতা অর্জন করতে হয়। অনেকে রোজা রাখলেও নামাজে অবহেলা করেন—যা রমজানের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
–সারসংক্ষেপ–
ফরজ গোসল না করেও সেহেরি খাওয়া যায় এবং রোজা সহিহ হয়। তবে ফজরের নামাজের আগে অবশ্যই গোসল করে পবিত্র হয়ে নিতে হবে—এ ব্যাপারে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে।