
মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন ১৭ রমজান। ২ হিজরির এই দিনে (১৩ মার্চ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার অদূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ। এটি ছিল মুসলমানদের সঙ্গে মক্কার কুরাইশদের প্রথম বড় আকারের সশস্ত্র সংঘর্ষ, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী বিজয় অর্জন করে।
ইতিহাসে এ যুদ্ধ ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ বা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন হিসেবে পরিচিত। মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম যোদ্ধা ১০০০ জন সুসজ্জিত কুরাইশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জন করেন। মুসলিম বাহিনীর কাছে ছিল সীমিত অস্ত্র, মাত্র ৭০টি উট ও ২টি ঘোড়া। অপরদিকে কুরাইশদের ছিল প্রায় এক হাজার সৈন্য, একশ ঘোড়া, ছয়শ লৌহবর্ম এবং অসংখ্য উট।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, মুসলিম বাহিনীতে ছিলেন ৮২ জন মুহাজির এবং বাকি সবাই আনসার। আনসারদের মধ্যে আওস গোত্রের ৬১ জন এবং খাজরাজ গোত্রের ১৭০ জন অংশ নেন। যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দী হয়। অপরদিকে মুসলিম বাহিনীর ১৪ জন সাহাবি শহীদ হন।
বদর যুদ্ধের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল ইসলামের অন্যতম প্রধান শত্রু আবু জাহেলের নিহত হওয়া। যুদ্ধের শুরুতে প্রাচীন আরব রীতি অনুযায়ী মল্লযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই বাহিনীর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকে মহানবী (সা.) মুসলিম বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্বাচন করেন। আল আরিশ পাহাড়ের পাদদেশে শিবির স্থাপন করা হয়, ফলে পানির কুয়াগুলো মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া এমন জায়গায় সৈন্য সমাবেশ করা হয়, যাতে সূর্যোদয়ের পর যুদ্ধ হলে মুসলিম সৈন্যদের চোখে সূর্যের আলো না পড়ে।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এ যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে আরবে মুসলমানরা একটি নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়। একই সঙ্গে মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি আরও মজবুত হয়।
পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।” (সুরা হজ: ৩৯)
আরও বলা হয়েছে, “যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তবে সীমালঙ্ঘন করো না। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।” (সুরা বাকারা: ১৯০)
ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক বিজয় নয়, বরং ঈমান, সাহস ও আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।