
মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: রমজান মাসে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, এ সময় সঠিক ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায় এবং পুরো রমজানজুড়ে সুস্থ থাকা সম্ভব হয়। তাই ইফতারে সব প্রধান খাদ্যগোষ্ঠীর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল ও শাক-সবজি, ভাত বা রুটি, পাশাপাশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করলেই ইফতার হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ।
ফল ও শাক-সবজি
পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন অন্তত দুইবার শাক-সবজি এবং দুইবার ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ইফতারের শুরুতে খেজুর খাওয়া ইসলামী ঐতিহ্যের অংশ। খেজুর শক্তির চমৎকার উৎস এবং এতে প্রচুর পটাসিয়াম রয়েছে, যা পেশী ও স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
তবে খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইফতারের টেবিলে বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও সালাদ রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়।
ভাত, রুটি ও শস্যজাত খাবার
আস্ত রুটি, বাদামি চাল কিংবা আস্ত শস্যের নুডলস জটিল কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার। এগুলো শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।
চিনিযুক্ত খাবার ও অতিরিক্ত মিষ্টান্ন দ্রুত শক্তি দিলেও তা দ্রুত কমে যায়। তাই ইফতারে পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি এবং শস্যজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
মাংস, মাছ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
প্রতিদিনের ইফতারে চর্বিহীন মাংস, চামড়াবিহীন মুরগি, মাছ, ডিম, ডাল ও কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার রাখা উচিত। প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত ও শক্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খাবার প্রস্তুতের সময় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে স্টিমিং, গ্রিলিং, বেকিং বা শ্যালো ফ্রাই পদ্ধতি অনুসরণ করলে খাবার স্বাস্থ্যকর থাকে। বিশেষজ্ঞরা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
উপসংহার
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার শুধু রোজা ভাঙার মুহূর্ত নয়—এটি শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার সময়। তাই ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নিলে রমজান মাসজুড়ে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব।