
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
সিএইচটি নারী হেডম্যান-কার্বারী নেটওয়ার্ক খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার(১৩ মার্চ) একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাগড়াছড়ি সদরের পানখাইয়া পাড়ায় অবস্থিত আলো অফিসের হলরুমে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও নেটওয়ার্কের সভাপতি জয়া ত্রিপুরা। সভা পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক পূবালী ত্রিপুরা।
খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক গীতিকা ত্রিপুরা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনাই অপ্রকাশিত থাকে। এই নেটওয়ার্ক সেই অনুচ্চারিত ঘটনাগুলো সামনে তুলে আনতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোর নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা বলেন, একজন যোগ্য কার্বারী বা হেডম্যানকে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে।
কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরা বলেন, কার্বারীদের বর্তমান ভাতা সম্মানজনক নয় এবং পদমর্যাদার কারণে দিনমজুরি করার সুযোগ না থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞোলা মং বলেন, কার্বারীরা আর্থিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অথচ পদমর্যাদার কারণে দিনমজুরিও করতে পারেন না। গ্রামের যেকোনো প্রয়োজনে সবাই কার্বারীর দ্বারস্থ হন, কিন্তু তাদের ন্যায্য স্বীকৃতি নেই।
সমাজকর্মী ধীমান খীসা বলেন, আদিবাসী নারীরা এখনও শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। প্রথাগত ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, চাকমা নারীরা আজও ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত, যা অবিলম্বে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইউএনডিপির খাগড়াছড়ি ব্যবস্থাপক প্রিয়তর চাকমা বলেন, সংগঠনকে টেকসই করতে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, আচরণবিধি নির্ধারণ এবং ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে তোলা জরুরি।
বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক ইখিন চৌধুরী। তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই জেলাভিত্তিক নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়েছে।
স্বাগত বক্তব্যে কার্বারী অঞ্জলী ত্রিপুরা বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সংগঠন গঠিত হয়েছে। কার্বারী ও সংগঠনের সদস্য শিল্পী মারমা বলেন, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি কেবল একটি আইন নয়, এটি আদিবাসীদের প্রথাগত বিচার, জ্ঞান ও ভূমি ব্যবস্থাপনার ভিত্তি।