1. admin@dailyuttarerchitro.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামান বাঘু ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন -মাও: আব্দুল হালিম হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার খালি কীটনাশকের বোতল ফেরত দিলেই নগদ টাকা, পরিবেশ রক্ষায় ইন্ডোফিলের অভিনব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার নাগরভিটা সীমান্তে ২৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অচল, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫১ বার পঠিত

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দুর্ঘটনায় আহত, গুরুতর অসুস্থ ও প্রসবকালীন জটিলতায় থাকা রোগীরা সময়মতো জেলা শহরে পৌঁছাতে না পারায় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে থাকা তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন, সয়ার ইউনিয়ন ও হাড়িয়ারকুটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকা তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও সময়মতো মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় গাড়িগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি অর্থায়নে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা এসব অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চত্বরে বা নির্ধারিত গ্যারেজে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। জরুরি সময়ে রোগী পরিবহনের জন্য কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি।

একাধিক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মেরামতের জন্য বরাদ্দ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। একজন রোগী পরিবহনে গেলে অন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি রোগীকে রাতভর অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা প্রসবকালীন জটিলতায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে, যা রোগীর জীবনঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

গুরুতর রোগীদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ স্থানান্তর করতে হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক কিংবা ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

ভুক্তভোগী এক স্বজন বলেন,

“রাতে হঠাৎ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ভাড়া গাড়ি নিতে হয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এটি বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় গাড়ি পেতেও দেরি হয়।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রসব ব্যথা উঠলে ঝুঁকি নিয়েই রোগীকে ইজিবাইকে করে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। “রাস্তার ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়,”।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহ বলেন,

“স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল থাকলে রোগীদের এ দুর্ভোগে পড়তে হতো না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, জরুরি সেবার মানোন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত বিকল অ্যাম্বুলেন্সগুলোর মেরামত, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবহেলা, সমন্বয়হীনতা ও তদারকির ঘাটতির কারণেই জীবনরক্ষাকারী সেবা অচল হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স কোনো বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি মানবিক সেবা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে অতিরিক্ত যানবাহন সংযুক্ত করা জরুরি।

তারাগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্স সংকট কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতই নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জীবন বাঁচানোর গাড়িই হয়ে উঠবে মৃত্যুঝুঁকির নীরব কারণ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক উত্তরের চিত্র
Theme Customized By Shakil IT Park