
মাসুম আল মাহির, রানীশংকৈল প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা-র কাশিপুর ইউনিয়ন-এ ঝোড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বৃষ্টির তাণ্ডবে শত শত বিঘা জমির ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠের পর মাঠ ভুট্টা ও গমের ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে ভুট্টা ও গমের বিস্তীর্ণ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং গম পাকার আগেই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক জানান, তার প্রায় সাত বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেত ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ভাঙা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার মন চায় আমি এখানেই শুয়ে পড়ি। সাত বিঘা জমির ভুট্টা সব শেষ হয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।” তার মতো আরও অনেক কৃষক বছরের পর বছর সঞ্চিত আশা-ভরসা হারিয়ে এখন হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, এই ফসলই ছিল তাদের সারা বছরের আয়ের প্রধান উৎস। এসব ফসল বিক্রি করে পরিবার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মুহূর্তের দুর্যোগে সেই স্বপ্নগুলো এখন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হোক। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষি উৎপাদনে এমন ক্ষতি হলে দ্রুত পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম চালু করা জরুরি। এতে কৃষকেরা নতুন করে চাষাবাদের জন্য সাহস ও সহায়তা পাবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলও সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশা, সম্মিলিত উদ্যোগে এই দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন কৃষকেরা।