1. admin@dailyuttarerchitro.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামান বাঘু ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন -মাও: আব্দুল হালিম হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার খালি কীটনাশকের বোতল ফেরত দিলেই নগদ টাকা, পরিবেশ রক্ষায় ইন্ডোফিলের অভিনব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার নাগরভিটা সীমান্তে ২৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

রমযান মাসের ফযীলত ও এবাদত

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৫২ বার পঠিত

রমযান মাসের ফযীলত ও এবাদত

রমযান আরবী বৎসরের অষ্ঠম মাস। এই মাসের ফযীলতের সহিত বৎসরের অন্য কোন মাসের ফযীলতের তুলনা হয় না। ইহার ফযীলত অনেক বেশী।ইহাকে আল্লাহ তায়ালা খাস ফযীলত দান করিয়াছেন। এই মাসের যেকোনো এবাদতের সওয়াব অন্যান্য মাসের এবাদত অপেক্ষা ৭০ গুন বেশী। আল্লাহ তাআলা এই মাসে উম্মতে মুহাম্মদদী (সাঃ)-এর প্রতি ত্রিশটি রোযা ফরয করিয়াছেন। কোরআন মাজীদে এরশাদ হইয়াছে:
ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ কুতিবা আলাইকুমুসসসিয়ামা কামা কুতিবা আলাল্লাযীনা মিন কাবলিকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকূন

অর্থ : হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমযান মাসের রোযা ফরয করা হইয়াছে, যে রূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরয করা হইয়াছিল, যেন তোমার আল্লাহকে ভয় কর।
রমযান মাসে প্রতিদিন রোযা আদায়কারীদের দুই দুইটি করিয়া ফরয আদায় হয়, একটি ফরয রোযার এবং অন্যটি রোযার নিয়তের । রোযা মানুষের পাপরাশি জ্বালাইয়া-পোড়াইয়া নিঃশেষ করিয়া দেয় এবং দেহ কাঠামোকে পাপমুক্ত ও পবিত্র করে । এই প্রসঙ্গে রাসূল করীম (সাঃ) এরশাদ ফরমাইয়াছেন:-
মান সামা রামাদান ঈমানাও ওয়া ইহতিসাবান খারাজা মিন যুনূবিহী কাহওয়ামিন ওয়ালাদাতহু উম্মুহু। ওয়া ফী রেওয়ায়াতিন মান সামা রামাদানা আওয়ালাহু ইলা আখিরিহী খারাজ মিন যুনূবিহী কাইয়াওমিন ওয়ালাদাতহু উম্মুহু।

{ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সাঃ) এরশাদ করিয়াছেন}, যে ব্যক্তি রমযান মাসের প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত রোযা আদায় করে, সে নিজের গোনাহ সমূহ হইতে এমনভাবে বাহির হইয়া আসে যেন আজই তাহার মাতৃগর্ভ হইতে ভূমিষ্ঠ হইয়াছে। রমযান মাসের অধিক ফযীলতের আর একটি প্রধান কারণ, আল্লাহর বাণী পবিত্র কোরআন লাওহে মাহফুয হইতে প্রথম আসমানে এই মাসেই অবতীর্ণ হইয়াছিল।

রমযানের বৈশিষ্ট্য সমূহ –

বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হইয়াছে, রমযানের কতগুলি বৈশিষ্ট্য আছে।
যেমন –
(১) রমযানে মানুষের রুজী বৃদ্ধি হয়।
(২) ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
(৩) খাওয়া-দাওয়া সব কিছু এবাদতের মধ্যে গণ্য হয়।
(৪) নেক কাজ ও এবাদতের মাত্র বাড়ে।
(৫) আল্লাহর রহমত অত্যধিক প্রশস্ত হয়।
(৬) আসমান- যমীনের ফেরেশতাগণ রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে।
(৭) ইবলীস ও তার শিষ্যদেরকে বন্দী করে রাখা হয়।
(৮) নফসে আম্মারার জোর কমাইয়া দেওয়া হয়।
(৯) বেহেশতের দরজা সমূহ উন্মুক্ত রাখা হয়।
(১০) দোযখের দরজা সমূহ বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়।
(১১) রোযাদারের জন্য প্রত্যহ বেহেশত সজ্জিত করা হয়।
(১২) রোযাদার ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়।
(১৩) রমযানের প্রতি শুক্রবার রাত্রে ঊনচল্লিশ লাখ জাহান্নামীকে মুক্ত করা হয়।
(১৪) রমযানের ভোর রাত্রে গোনাহগারদের গোনাহ মার্জনা করিয়া দেওয়া হয়।
(১৫) রোজাদারের দেহ পাপ মুক্ত হয়।
(১৬) রোজাদারের মন পবিত্র হয়।
(১৭) রমযানের এবাদতে অন্য সময়ের এবাদত অপেক্ষা ৭০ গুন বেশী সওয়াব হয়।
(১৮) আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিলাভ সহজ হয়।
(১৯) রমযান মাসের পানাহারের হিসাব লওয়া হইবে না।
(২০) রমযানের রোযা মানুষকে পাপ কাজ হইতে বিরত রাখে।

রমযান মাসের চারটি বিশেষ ফযীলত–

হযরত ওমর (রাঃ) বলেন, আমি একদা রাসূলে কারীম (সাঃ) এর সমীপে রমযান শরীফের ফযীলত সম্পর্কে আরজ করিয়াছিলাম, তখন তিনি এরশাদ করিলেন, চারটি কিতাবে রমযানের চারটি পরিচয় বর্ণিত হইয়াছে। যথা:-
(১) তাওরাতে রমযানকে বলা হইয়াছে ‘হাত্ব’-ইহার অর্থ, গোনাহ ধ্বংস করা।
(২) যাবুরে বলা হইয়াছে ‘কোরাবত’-ইহার অর্থ, রমযান মাসে আল্লাহ তায়ালা সহিত বান্দার অত্যন্ত নৈকট্য লাভ হয়।
(৩) ইঞ্জীলে ইহার পরিচয়ে বলা হইয়াছে ‘ত্বাব’-ইহার অর্থ পবিত্র হওয়া। অর্থাৎ, এই মাসে রোযাদারগণ পাপ হইতে পবিত্র হইয়া যায়।
(৪) আর পবিত্র কোরআনে ইহাকে বলা হইয়াছে ‘রামাযান’। এই শব্দটি ‘রময’ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়াছে। ইহার অর্থ হেমন্তকালীন বৃষ্টি বা জ্বালাইয়া দেওয়া। অর্থাৎ, রমযান মানুষের কু-রিপুসমূহকে জ্বালাইয়া ফেলে অথবা হেমন্তকালীন বৃষ্টি যেমন তরুলতাকে সজীব করিয়া তোলে, তেমনি রমযান আগমনে বান্দাগণও সর্ববিষয়ে আল্লাহর রহমতলাভে মৃত্যুতুল্য পাপ হইতে সজীব হইয়া উঠে।

রোযার তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রহিয়াছে–

(১) রোযা মন এবং আত্মা উভয়কে আল্লাহর স্মরণের দিকে ঝুঁকাইয়া রাখে।
(২) রোযাদারকে বিবেক-বুদ্ধির বিপরীত কাজ হইতে বিরত রাখে।
(৩) নফসে আম্মারা অর্থাৎ কুরিপুর তাড়না তথা পানাহার সঙ্গমাদি হইতে ধৈর্যধারণের শিক্ষা দেয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক উত্তরের চিত্র
Theme Customized By Shakil IT Park