
মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: খেলাধুলা ছেড়ে ভার্চুয়াল জগতে ঝুঁকছে তরুণরা
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা-এর বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। একসময় যে মাঠগুলো ছিল শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মুখর, আজ সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা। বিকেল হলেই যে মাঠগুলোতে ভিড় জমত ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা বিভিন্ন গ্রামীণ খেলায়, এখন সেসব মাঠ অধিকাংশ সময়ই পড়ে থাকে ফাঁকা।
স্থানীয়দের মতে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রায়ও এসেছে বড় পরিবর্তন। কেউ অনলাইনে কাজ করে আয় করার স্বপ্নে ব্যস্ত, কেউ জড়িয়ে পড়ছে ক্যাসিনো ও বিভিন্ন ধরনের বাজিতে। আবার অনেকেই মোবাইল গেম—বিশেষ করে Free Fire ও PUBG Mobile—এর স্ক্রিনে ডুবে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এসবের প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে। মাঠের খেলাধুলা কমে যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক অভিভাবকও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া, ক্যাসিনো ও মোবাইল গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি নতুন প্রজন্মকে ধীরে ধীরে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে স্কুল ছুটি হলেই মাঠ ভরে যেত শিশু-কিশোরদের খেলায়। ফুটবল, ক্রিকেট, হাডুডু কিংবা দাড়িয়াবান্ধা—বিভিন্ন খেলায় মুখর থাকত গ্রাম। এখন সেই দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।
এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তরুণদের আবার মাঠমুখী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, গ্রামে খেলাধুলার টুর্নামেন্ট আয়োজন, বই পড়া ও রচনা প্রতিযোগিতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার আয়োজনের মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
তারা মনে করেন, সবাই একসাথে এগিয়ে এলে নতুন প্রজন্মকে আবারও খেলাধুলা, শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। গ্রামের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ ও