
জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। খুন হওয়া ইলেক্ট্রিশিয়ান মঞ্জুরুল ইসলাম (৪৮)-এর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। সকালে ওই এলাকার এক ধান চাষী নিজের ধানক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে ধানক্ষেতের পাশের একটি বাগানে মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তরা ঘটনাটি আড়াল করতে মোটরসাইকেলটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ইলেক্ট্রিশিয়ান মঞ্জুরুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রামপুরা মাজার সংলগ্ন একটি আলুক্ষেত থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম পেশায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ফরিজ উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা মোটরসাইকেলটি মঞ্জুরুল ইসলামের ব্যবহৃত বলে নিশ্চিত করেছেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ বিভিন্ন দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারির মাধ্যমে মামলার তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ না করা গেলেও শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।