1. admin@dailyuttarerchitro.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামান বাঘু ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন -মাও: আব্দুল হালিম হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার খালি কীটনাশকের বোতল ফেরত দিলেই নগদ টাকা, পরিবেশ রক্ষায় ইন্ডোফিলের অভিনব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার নাগরভিটা সীমান্তে ২৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

খোলা আকাশই আশ্রয়: মানসিক ভারসাম্যহীন রেখা রানীর মানবেতর জীবন

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৫ বার পঠিত

জুয়েল ইসলাম, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নর উত্তর চাঁদখানা বগুলাগাড়ী কামারপাড়া গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্বামী-পরিত্যক্তা ও মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী রেখা রানী (২০)। একটি ঘরের অভাবে তার রাত কাটছে খোলা আকাশের নিচে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেখা রানীর বাবা মৃত তরণি রায় এবং মা মৃত পূর্ণিমা রানী রায়। বাবা-মা দুজনই মারা যাওয়ায় ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে তার জীবন কাটছে। পরিবারের মধ্যে এক ভাই ও এক বোন থাকলেও ভাই একটি কোম্পানিতে দৈনিক মজুরির কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন। ফলে বোনের চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের আগে রেখা রানীর কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। পাশের এলাকা তারাগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপাড়া এলাকায় বিয়ের পর তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তার কন্যাসন্তান বাবার কাছেই রয়েছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে রেখা রানী বলেন,

“আমার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। স্বামী বেঁচে থেকেও নেই। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার থাকার ঘর নেই, খাবার নেই, গোসলের জায়গা নেই। আমার একটা চালা ছিল, সেটাও ভেঙে পড়ে গেছে। কেউ যদি আমাকে একটু সাহায্য করতো, তাহলে আমি তার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম।”

স্থানীয় প্রতিবেশী নমিতা রায় জানান,

“রেখা বিয়ের আগে খুব ভালো ছিল। কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন তাকে দেখে খুব খারাপ লাগে। অনেক সময় না খেয়ে থাকে। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে খাবার দিই।”

আরেক প্রতিবেশী মাহী রায় বলেন,

“রেখা রানীর থাকার মতো কোনো ঘর নেই। ভাঙা চালার নিচে বসে থাকত, এখন সেটিও পড়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে মেয়েটা বাঁচতে পারে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন,

“বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের মানবিক উদ্যোগ না এলে অসহায় এই তরুণীর জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি বাসস্থান, চিকিৎসা এবং খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক উত্তরের চিত্র
Theme Customized By Shakil IT Park