1. admin@dailyuttarerchitro.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান, সদস্যসচিব মো. বদিউজ্জামান বাঘু ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করুন -মাও: আব্দুল হালিম হরিপুরে ‎অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ রাণীশংকৈলে ডিবির অভিযানে ২৬০ ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার খালি কীটনাশকের বোতল ফেরত দিলেই নগদ টাকা, পরিবেশ রক্ষায় ইন্ডোফিলের অভিনব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার নাগরভিটা সীমান্তে ২৭১ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিল-ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

কি হবে যদি পৃথিবী থেকে সমস্ত মানবজাতির অস্তিত্ব মুছে যায়?

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: এক মুহূর্তে যদি পৃথিবী থেকে সব মানুষ হারিয়ে যায়—না কোনো যুদ্ধ, না কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়; শুধু নিঃশব্দে মানবজাতির অস্তিত্ব মুছে যায়—তাহলে কেমন হবে আমাদের এই পরিচিত পৃথিবী? শহরের কোলাহল, যানজট, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন—সবকিছু থেমে গেলে কী ঘটবে?

চলুন মানুষহীন পৃথিবীর এক সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা যাক।

*প্রথম ২৪ ঘণ্টা: নীরবতার শুরু*
মানুষ হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। শহরের আলো নিভে যাবে, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। পোষা প্রাণীগুলো প্রথমে বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে, কারণ তাদের জীবন সম্পূর্ণভাবে মানুষের ওপর নির্ভরশীল।

*চিড়িয়াখানার করুণ বাস্তবতা*
মানুষের অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে দ্রুত বিপর্যয় নেমে আসবে চিড়িয়াখানাগুলোতে। খাঁচাবন্দী প্রাণীরা নিজেরা খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে খাদ্য ও পানির অভাবে অধিকাংশ প্রাণী খাঁচার ভেতরেই মৃত্যুবরণ করবে।
কিছু শক্তিশালী প্রাণী খাঁচা ভেঙে বের হতে পারলেও বেশিরভাগ প্রাণীর জন্য সেটি সম্ভব হবে না। ফলে চিড়িয়াখানাগুলো ধীরে ধীরে পরিণত হবে নিঃশব্দ মৃত্যুপুরীতে।

*প্রথম কয়েক সপ্তাহ: প্রকৃতির প্রত্যাবর্তন*
মানুষ না থাকলে দ্রুতই প্রকৃতি তার দখল ফিরে নিতে শুরু করবে। রাস্তাঘাটে আগাছা জন্মাবে, ভবনের দেয়ালে লতা-গুল্ম ছড়িয়ে পড়বে। বন্য প্রাণীরা শহরে ঢুকে পড়বে এবং নতুন বাসস্থান তৈরি করবে।

*প্রথম কয়েক বছর: সভ্যতার ভাঙন*
কয়েক বছরের মধ্যেই শহরের অবকাঠামো ভেঙে পড়তে শুরু করবে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতু, রাস্তা ও ভবন দুর্বল হয়ে যাবে।
তবে কিছু স্থাপনা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে—যেমন পিরামিড অব গিজা, গ্রেট ওয়াল অব চায়না কিংবা আধুনিক স্থাপনা বুর্জ খলিফা—যেগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী মানব সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।

*যানবাহনের পরিণতি*
মানুষের তৈরি যানবাহনগুলোর বেশিরভাগই দ্রুত অচল হয়ে পড়বে। গাড়ি, ট্রেন, বিমান—সবকিছুই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাবে।
তবে মহাকাশে থাকা কিছু যান—যেমন Voyager 1—মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মহাকাশে ভেসে থাকতে পারে হাজার বছর পর্যন্ত।

*বিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে আসা প্রাণী*
মানুষের অনুপস্থিতিতে প্রকৃতি আবার ভারসাম্যে ফিরে আসবে। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রাণী নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে। শিকার ও বন ধ্বংস না থাকায় তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে।
একইসঙ্গে নতুন প্রজাতির উদ্ভবও সম্ভব। এটি ঘটে বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে প্রাণীরা ধীরে ধীরে নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করবে, যা দীর্ঘ সময় পরে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতিতে রূপ নিতে পারে।

*মহাকাশে উপগ্রহের ভবিষ্যৎ*
পৃথিবীর বাইরে থাকা উপগ্রহগুলোর কার্যকারিতাও ধীরে ধীরে কমে যাবে।
International Space Station রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় ধীরে ধীরে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যাবে।
নিম্ন কক্ষপথের অনেক উপগ্রহ কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে পতিত হবে, আর উচ্চ কক্ষপথের উপগ্রহগুলো দীর্ঘদিন ঘুরতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অচল হয়ে পড়বে।

*দশক থেকে শতাব্দী: পৃথিবীর পুনর্জন্ম*
সময়ের সাথে সাথে বনভূমি বিস্তৃত হবে, নদী ও সমুদ্র দূষণমুক্ত হবে। শহরগুলো ধীরে ধীরে জঙ্গলে পরিণত হবে। মানুষের তৈরি অধিকাংশ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রকৃতি নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।

*শেষ কথা*
মানুষহীন পৃথিবীর এই চিত্র আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবী আমাদের ছাড়াও টিকে থাকতে পারে। বরং আমরা না থাকলে পৃথিবী আরও স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তাই এখনই সময় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান শেখার।
কারণ, পৃথিবী টিকে থাকবে—প্রশ্নটা শুধু, আমরা তার অংশ হয়ে থাকতে পারব কিনা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক উত্তরের চিত্র
Theme Customized By Shakil IT Park