
সীমান্ত, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ও ট্রেজারার এর মেয়াদ শেষ হতে চলছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি চায় তাদের মধ্য থেকে দক্ষ ও রাজনৈতিক কোনো অধ্যাপক উপাচার্য নিয়োগ হোক।
প্রথমত, একজন উপাচার্য ও ট্রেজারারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং সরকারের কাছে প্রতিশ্রুত আবাসন বৃত্তির অর্থ আনয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা জরুরি।
দ্বিতীয়ত, বাজেট বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ় ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা সম্পর্কে অবগত নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩৮টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এত বড় একাডেমিক কাঠামো এককভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই আমরা উপ-উপাচার্যের পদ সৃষ্টির দাবিও জানাচ্ছি, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল ও কার্যকর হয়।
আমরা আরও বলতে চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু সিনিয়র ও যোগ্য অধ্যাপক রয়েছেন, যারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। তাঁদের দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যথোপযুক্ত পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখনও কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা পায়নি; এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের প্রতি আমরা এ বিষয়ে সুদৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
পরিশেষে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি-
১. প্রশাসনের উচ্চপদে রদবদল হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য
ও ট্রেজারার নিয়োগ দিতে হবে।
২. নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক, যাঁর একাডেমিক উৎকর্ষ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা রয়েছে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর প্রশাসনের জন্য উপ-উপাচার্যের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, বাজেট বৃদ্ধি ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ। এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলস্বরূপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
নতুন প্রশাসনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিসমূহ নতুনভাবে সামনে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো;
১. শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান।
২. আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন বৃত্তি চালু ও বাস্তবায়ন।
৩. কেরাণীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন।
৪. গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু।
৫. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) বাস্তবায়ন।
এছাড়াও গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। “যমুনা আন্দোলন”সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি এসেছে। এই অর্জনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করেছে। এর ফলে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল শুরু হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায়- যদি প্রশাসনের উচ্চপদে রদবদল হয়, তবে পূর্বের ন্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ।