মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলা-র বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চারল ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে কিনোয়া চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এক একর জমিতে এক লাখ টাকার কম খরচে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব এই ‘সুপার ফুড’ কিনোয়া বীজ থেকে।
বর্তমানে বাজারে কিনোয়া বীজের দাম প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত। উচ্চ পুষ্টিগুণ ও চাহিদার কারণে ফসলটি নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ‘সুপার ফুড’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা গুলজার রহমান বিপুল জানান, কিনোয়া বীজে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা সাধারণ সবজিতে সহজে পাওয়া যায় না। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসক ও বীজ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুর্বল ও অপুষ্ট রোগীদের জন্য কিনোয়া অত্যন্ত কার্যকর খাদ্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই শস্যের পুষ্টিমান স্বীকৃত।
কম খরচে বেশি লাভের আশা
কিনোয়া চাষি মোঃ আব্দুল বাতেন জানান, দুই বিঘা জমিতে কিনোয়া চাষে তার ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্গা জমি নিলে মোট খরচ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হতে পারে। মাত্র দুইবার সেচ দিতে হয়েছে এবং পরিচর্যার ঝামেলাও কম। তিনি আশা করছেন, প্রতি কেজি ১,০০০ টাকা দাম পেলেও উল্লেখযোগ্য লাভ হবে।
আরেক চাষি দবিরুল ইসলাম বলেন, এক একরে খরচ ৬০-৭০ হাজার টাকা, আর বর্গা জমিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। ডিসেম্বর মাসে চাষ শুরু করে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ফসল কাটা যায়। প্রতি একরে সম্ভাব্য ফলন ২০ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এলাকায় ব্যাপক সাড়া
স্থানীয় শিক্ষার্থী মোঃ ইখতেয়ার উদ্দীন জানান, চলতি বছরে প্রায় ২১ বিঘা জমিতে কিনোয়া চাষ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর চাষের পরিমাণ ২০০–২৫০ বিঘায় ছড়িয়ে পড়বে।
কৃষকদের প্রত্যাশা
কৃষকদের মতে, কিনোয়া চাষে খরচ কম, পরিশ্রমও তুলনামূলক কম; অথচ লাভের সম্ভাবনা বেশি। তাই বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে কিনোয়া চাষ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।