ফজলুর রহমান, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর (ইসলামাবাদ) এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার নির্মাণাধীন ভবন পুড়ে গেছে। আগুনে ভবনের টিনশেড ও সেখানে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ ভুট্টার ডাটা (গাছের শুকনো অংশ) পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে মাদরাসার শিক্ষার্থী, আবাসিক কক্ষ কিংবা শিক্ষাসামগ্রীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
শনিবার সকালে উপজেলার হলদিবাড়ী হাট ডাকঘর এলাকার দারুল আমান সিদ্দিকীয়া দরবার শরীফ হাফেজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং প্রাঙ্গণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনে শুধুমাত্র নতুন নির্মাণাধীন একটি ঘর, ওই ঘরের টিনশেড এবং সেখানে সংরক্ষিত ভুট্টার ডাটা পুড়ে গেছে। মাদরাসার ছাত্রদের থাকার কক্ষ, কিতাবাদি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মকবুল হোসেন দাবি করেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো মাদকসেবী ওই স্থানে মাদক সেবন করতে গিয়ে অসতর্কতাবশত আগুনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নয় পুলিশ। বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সকালে ঘটেছে। এত সকালে মাদকসেবী সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ঘটনাটি বিকেলে ঘটলে মাদকসেবীদের মাধ্যমে আগুন লাগার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত। আগুনের পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। আমরা তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছি।”
এদিকে নির্মাণাধীন ভবনে বিপুল পরিমাণ ভুট্টার ডাটা মজুদ রাখার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এতিম ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন কৃষকের প্রায় ১২ বিঘা জমি থেকে সংগ্রহ করা ভুট্টার ডাটা সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডে সেসব ডাটাও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে টিনশেড, নির্মাণসামগ্রী ও সংরক্ষিত ভুট্টার ডাটাসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।