
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নিজপাড়া গ্রামে নিজস্ব খামারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রোটিনা রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদা ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া, কম্পোস্ট সার তৈরি, আধুনিক চাষপদ্ধতি, পুষ্টিগুণ ও বাজারজাতকরণ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়। মাসুদা ইসলাম বলেন, বাটন মাশরুমের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে কম্পোস্ট তৈরি এবং ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করার পর ধাপে ধাপে সফলতা আসে। গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক মাশরুমের পুষ্টিমান তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা বাটন মাশরুমে প্রায় ২.৭৫ গ্রাম প্রোটিন, ২.৫ গ্রাম শর্করা এবং ০.৫ গ্রাম চর্বি থাকে। এছাড়া এতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মাশরুম অন্তর্ভুক্ত করলে দেহের বৃদ্ধি ও গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইমিউনিটি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি এন্টি-ডায়াবেটিক, এন্টি-ক্যান্সার, এন্টি-হাইপারটেনশন ও এন্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাটন মাশরুম ও বীজ আমদানি করা হয়, যার বাজারমূল্য শত কোটি টাকার বেশি। দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাহারী এগ্রোটেকের পার্টনার প্রকৌশলী মো. ফাহিম রহমান, গবেষক মো. সালাউদ্দিন, মো. মিম ইসলাম, মো. জিম ইসলাম ও আকতার কবির কাননসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।