মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
নির্বাচনের উত্তাপ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। পোস্টার নেই, মাইক নীরব। কিন্তু পাঁচ বছরের বাস্তবতা নিয়ে এখন হিসাব কষছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর বর্তমান বাস্তবতার ফারাক নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম নির্বাচনের আগে ব্যাপক প্রচারণা চালালেও নির্বাচনের পর তাঁকে এলাকায় তেমন দেখা যায় না। চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার—সবখানেই শোনা যাচ্ছে একই ধরনের আক্ষেপ। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নের মতো নানা দাবি এখনও অপূর্ণ রয়েছে বলে জানান অনেকেই।
অন্যদিকে, পরাজিত প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল হাকিমকে নিয়মিত এলাকায় দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শোকসভা, অসুস্থদের খোঁজখবর নেওয়া ও দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে তাঁর উপস্থিতি লক্ষণীয়। একাধিক বাসিন্দা বলেন, “ক্ষমতা না থাকলেও তিনি মানুষের পাশে আছেন; কিন্তু যাঁর হাতে ক্ষমতা, তাঁকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট কেবল প্রতীক চিহ্নে চাপ দেওয়ার বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে এমন একটি সিদ্ধান্ত। সাময়িক আবেগ বা প্রলোভনে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব পুরো মেয়াদজুড়ে বহন করতে হয় জনগণকেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সচেতন ভোটই হতে পারে উন্নয়নের ভিত্তি।
সশ্লিষ্টদের অভিমত, জনগণের ভোট একটি আমানত। সেই আমানতের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তার প্রতিফল সাধারণ মানুষের জীবনেই পড়ে। তাই ভবিষ্যতে আরও বিবেকবান ও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।