ফজলুর রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে হাম ও রুবেলার সংক্রমণ বেড়ে ১৮ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন হাম এবং দুজন রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকি শিশুরা বাড়িতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে আছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাম শনাক্তের জন্য ছয়টি নমুনা পরীক্ষায় দুজনের হাম এবং দুজনের রুবেলা নিশ্চিত হয়েছে। নতুন সংক্রমণ রোধে আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের পর বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হামের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া দেখা দেয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। টিকাদানে অনীহা বা অসম্পূর্ণ টিকাদান সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল জানান, হাম মোকাবিলায় হাসপাতালে চার শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত দুই শিশু চিকিৎসা শেষে বাড়িতে রয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার এবং আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।