খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
জেলা কার্বারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা-২০২৬ খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এবং মাটিরাঙা উপজেলা কার্বারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক যতীন বন্ধু ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কার্বারী ও হেডম্যান প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কার্বারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেম রঞ্জন চাকমা। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও হেডম্যান জয়া ত্রিপুরা বলেন, "১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি কেবল একটি আইন নয়, এটি আদিবাসীদের প্রথাগত বিচার, জ্ঞান ও ভূমি ব্যবস্থাপনার ভিত্তি।" তিনি এই শাসনবিধির কার্যকর বাস্তবায়নে সকলকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলোর নির্বাহী পরিচালক অরুন কান্তি চাকমা। তিনি বলেন, একজন যোগ্য কার্বারী বা হেডম্যানকে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে। পাশাপাশি তিনি কার্বারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন খাগড়াছড়ি জেলা হেডম্যান এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যুব লক্ষণ চাকমা, হেডম্যান ও বাজার চৌধুরী ইখিন চৌধুরী, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা কার্বারী এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি প্রতন কুমার চাকমা, রামগড় কার্বারী এ্যাসোসিয়েশনের আনন্দ মোহন ত্রিপুরা এবং কার্বারী গৌরি মালা ত্রিপুরা। বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট এবং তা উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা কার্বারী এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রনিক ত্রিপুরা বলেন, কার্বারীদের বর্তমান ভাতা কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। তিনি আরও বলেন, পদমর্যাদার কারণে দিনমজুরি করার সুযোগ না থাকায় কার্বারীরা চরম আর্থিক সংকটে নিপতিত হচ্ছেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি সরকারের কাছে কার্বারীদের ভাতা বৃদ্ধিসহ তাদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রশাসন ব্যবস্থার সুরক্ষা, কার্বারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ ও যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।