ফজলুর রহমান, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী গার্মেন্টসে চাকরির খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সিলেট থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে চার শিক্ষার্থীকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে চার শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়ি ফিরে না আসায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস জানান, বুধবার সিলেটের একটি বাস কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। এর আগে তারা ঢাকায় গিয়েছিল।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ দিন-রাত এক করে তাদের সন্ধানে কাজ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে তারা বাড়ি ছেড়েছিল এবং তাদের ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
অন্যদিকে, পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে চার শিক্ষার্থী জানিয়েছে তারা গার্মেন্টসে চাকরির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়েছিল। তবে এ দাবির সত্যতা এবং মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে চার শিক্ষার্থীকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় আনা হয়। পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় সাংবাদিকরা চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা অনুমতি দেননি। ফলে এ বিষয়ে চার শিক্ষার্থীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।