মোঃ আবু সুফিয়ান বাবু, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা: বসন্তের আগমনী বার্তায় সেজে উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলা-এর প্রকৃতি। চারদিকে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ আমবাগানে এখন হলুদাভ মুকুলের সমারোহ। দিগন্তজোড়া আমগাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা মুকুল সৃষ্টি করেছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। ঐতিহাসিক আমগাছেও এ বছর এসেছে প্রচুর মুকুল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার সময় সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি আমগাছেই মুকুল এসেছে। সকালের নরম রোদ আর বিকেলের মৃদু বাতাসে দুলছে আমের মুকুল, ছড়িয়ে দিচ্ছে মিষ্টি সুবাস। প্রকৃতি যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ, আর সেই প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চল।
স্থানীয় আমগাছ মালিকরা জানান, প্রতিবছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও প্রতিবছর আমের বাজারদর কিছুটা কম থাকে, তবুও চাষিরা আশাবাদী—এবার তারা আমের ন্যায্য মূল্য পাবেন।
ভালো ফলনের আশায় আমের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কীটনাশকের দাম বেশি হলেও থেমে নেই তাদের চেষ্টা। নিয়মিত গাছ পরিচর্যা, স্প্রে ও বাগান পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে মুকুল রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
আমের জন্য সুপরিচিত এই অঞ্চলে বসন্ত মানেই নতুন স্বপ্নের সূচনা। মুকুলে ভরা আমগাছ চাষিদের মনে জাগিয়ে তুলেছে সমৃদ্ধির প্রত্যাশা। এখন শুধু অপেক্ষা—ঝরে না পড়ে মুকুলগুলো পরিণত হোক রসাল, সুস্বাদু আমে।
ঐতিহাসিক আমগাছের এক মালিক জানান, “আগের তুলনায় এবার মুকুল অনেক বেশি এসেছে। তাই মুকুল ধরে রাখতে সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমের সময় ঈদের ছুটিতে সারা দেশ থেকে মানুষ এখানে আসে আনন্দ উপভোগ করতে।”